নতুন বাজেটে মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেটের সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ছে। সেইসঙ্গে সিমের দাম বাড়ছে ৫০ শতাংশ। যার প্রভাব পড়বে গ্রাহকদের ওপর। শুক্রবার রাত বারোটা থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন কলরেট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন বাজেট স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে হতে পারে অন্যতম বাধা।
মোবাইল ফোন এখন বিলাসিতা নয়, বরং জরুরি প্রয়োজন। তাই তো সব শ্রেণির মানুষই এর ব্যবহারকারী।
এবারের বাজেটে কলরেট ও ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে আরও কিছু ফি। তাই একজন গ্রাহককে ১০০ টাকার মোবাইল সেবায় কর দিতে হবে ৩৯ টাকা। যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। মোবাইল সেবা নিয়ে নানা অভিযোগের মধ্যে, বাজেটে বাড়তি কর চিন্তায় ফেলেছে সাধারণ গ্রাহকদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাসায় কথা বলা বা পড়াশোনার ম্যাসেজ এগুলো কোথায় আসে, ফোনে। দেখা যায় এরজন্য আমাদের ডেটা ব্যবহার করতে হয়। যেহতু ডেটার খরচ এখন বেড়ে গেছে, আমাদের মতো যারা শিক্ষার্থী তাদের জন্য বিষয়টি কষ্টসাধ্য। ফোন এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফোন দিয়েই আমরা সবকিছু করি।’
টেলিকম অপারেটররা বলছে, দেশের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন মোবাইল সংযোগের বাইরে। এই সময়ে বাড়তি বিলের কারণে মোবাইল ব্যবহার আরও কমবে; এতে বরং সরকারই রাজস্ব বঞ্চিত হবে।
বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘আন কানেক্টেড পপুলেশনকে কানেকশনের মধ্যে আনব, সেখানে কিন্তু আমাদের অনেক ডিলে হয়ে যাবে। আমাদের যে গ্রোথরেট ছিল সেখানে অবশ্যই আমরা এখন কিছুটা স্লো মুভমেন্ট দেখতে পাব। বাজেটে কিন্তু স্মার্ট বাংলাদেশের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র আমরা দেখতে পাই।’
অতিরিক্ত শুল্কের কারণে প্রযুক্তিখাতের গতিও বাধাগ্রস্ত হবে, বলছেন বিশ্লেষকেরা।
ভিডিও দেখুন:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন বলেন, ‘হুট করে যদি এই জিনিসগুলোর দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে দেখা যাবে যে, আমি যে পরিমাণ কর বা ট্যাক্স এখান থেকে নিলাম সেটা নিয়ে দেখলাম যে আমার দেশের টোটাল অর্থনীতি যদি স্থবির হয়ে যায় বা এখানে যদি একটা পারসেনটেজ কমে যায় তাহলে কিন্তু আমার লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।’
বাড়তি শুল্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটব।



