আগামী অর্থ বছরে ৫৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় ২০০ কোটি টাকার মত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এই বরাদ্দকে একেবারেই কম বলছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, এই টাকা দিয়ে ভালো কোন গবেষণা করা সম্ভব না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অবশ্য বলছে, এই অর্থের পুরো ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
আগামী অর্থবছরে শিক্ষাখাতে ৯৪ হাজার ৭১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। যা মূল বাজেটের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর জিডিপির ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বরাদ্দ হচ্ছে এই খাতে। শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষায় বাজেটে সবচেয়ে কম বরাদ্দ পাওয়া দেশের তালিকায় আছে বাংলাদেশ।
এবার ৫৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে রাজস্ব বাজেট ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর উন্নয়ন বাজেট দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকা। আর গবেষণায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০০ কোটি টাকা।
ইউজিসি সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, ‘অচিরেই আরও কয়েকটি দেশের সাথে আমরা যোগাযোগ করছি এবং সরকারি খাতেও বাজেট থেকে একটি বড় বরাদ্দ ভবিষ্যতে মোকাবেলার জন্য, যখন ২০২৫ সাল থেকে স্কলারশিপ থাকবে না, একটা বড় অ্যামাউন্টের বরাদ্দ আমরা পাব এই বাজেটে বলে বিশ্বাস করি।’
গবেষকরা বলছেন, গবেষণায় পিছিয়ে থাকায় বিশ্ব র্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারছে না। আর গবেষণার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে বরাদ্দ পাচ্ছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা, যা একদমই কম। এই টাকা দিয়ে ভালো গবেষণা সম্ভব নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান বলেন, ‘৩৫ নম্বরের জিডিপি হিসেবে যদি বিচার করি, তাহলে কিন্তু শিক্ষা ও গবেষণায় কিন্তু আমরা বরাদ্দটা দিতে পারছি না। সরকারের অবশ্যই এ দিকে মনোযোগী হতে হবে। প্রায়োরিটি বেসিসে চিন্তা করতে হবে। আমি এটাকে একটা ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে চিন্তা করব।’
শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল নির্ধারণ করতে পারলে গবেষণায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেই সঙ্গে যেসব শিক্ষক গবেষণা করতে ইচ্ছুক তাদেরকে সবধরনের সহযোগিতা করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘যারা গবেষণা করে, তাদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী আপনি প্রায়োরিটি দেবেন। সবচেয়ে ভালো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের যে ক্যাপাবিলিটি, ফেসিনেশন সে অনুযায়ী যদি তাঁর বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয় তাহলে আর এই ঝামেলাগুলো থাকে না।’
সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সাথে একযোগে গবেষণা করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।



