প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের ব্যাংক ঋণে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ব্যাহত হবে বলে মনে করছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। বুধবার সকালে গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত বাজেট সংলাপে এমন সমালোচনা উঠে এসেছে। এছাড়া প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের উন্নয়নে শ্রম দেয়া মানুষ কতোটা গুরুত্ব পাচ্ছে- এ নিয়ে বাজেট সংলাপ আয়োজন করে সিপিডি। এ সময় বিশিষ্টজনেরা বাজেটের নানা অসংগতি তুলে ধরেন। দাবি ওঠে শ্রমিকদের রেশনিংয়ের আওতায় আনতেও।
আর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, এক দশকের উন্নয়ন কৌশলে শ্রমখাত উপেক্ষিত। এছাড়া শিক্ষার উপবৃত্তি নির্ধারণে মূল্যস্ফীতিকে বিবেচনায় আনা হয়নি; শিক্ষার মান উন্নয়নেও কোনো বরাদ্দ নেই বাজেটে, এমন মত আলোচকদের।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গত এক দশক বা দেড় দশক ধরে যে উন্নয়ন কৌশল চলছে, সেখানে কর্মসংস্থানটা সেভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না।’
আইএমএফের প্রেসক্রিপশনের বাজেট দেশের অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলবে বলেও মনে করেন তারা। একজন বক্তা বলেন, ‘২২ লাখ শ্রমশক্তি আছে বাজারে, এর মধ্যে ১৩ লাখকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন। তারমানে আপনি যৌবন রপ্তানি করছেন।’
প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাবে বলে বলে মনে করেন সিপিডির বিশ্লেষক।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে বাজেটে এগুলো কিন্তু পর্যাপ্ত নয়। একেবারেই নগন্য। তার পাশাপাশি জনগনকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করার জন্য আমরা কোনো পদক্ষেপ দেখি নাই।’
এ সময় বাজেটের ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তবে তিনি স্বীকার করেন, কৃষি ভর্তুকির অধিকাংশ বরাদ্দই যাচ্ছে ধনী কৃষকের পেটে।
এম এ মান্নান বলেন, ‘কৃষিতে বিশাল বরাদ্দ হচ্ছে এবং এই মুহুর্তে মেকানাইজেশনের একটা বিরাট অবদান আছে। এই যন্ত্রগুলো ৭০ ভাগ ভর্তুকিতে যাচ্ছে, উচ্চ শ্রেনির কৃষকদের হাতে। এমনিতেই তারা ধনী, তারা আরও ধনী হচ্ছে।’
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।



